জায়দুল কবির ভাঙ্গি, আঞ্চলিক প্রতিনিধি, গাজীপুর: | বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬ | প্রিন্ট | 105 বার পঠিত
জ্বালানি সংকট, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র বন্ধ থাকা এবং চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় গাজীপুরে তীব্র লোডশেডিং দেখা দিয়েছে। গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিল্পকারখানায় উৎপাদন কমে গিয়ে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন উদ্যোক্তারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জেলায় প্রতিদিন গড়ে ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। শহর এলাকায় তুলনামূলক কম হলেও গ্রামাঞ্চলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। এতে পানি সরবরাহ, পড়াশোনা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ইটাহাটা এলাকার রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী কাজল ফকির জানান, দিনে অন্তত ৬ থেকে ৭ বার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করছে, যা ব্যবসা পরিচালনায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নাওজোড় এলাকার বাসিন্দা আবুল হাশেম বলেন, প্রতিবার লোডশেডিং এক ঘণ্টা বা তার বেশি স্থায়ী হওয়ায় পানি তোলা থেকে শুরু করে দৈনন্দিন কাজেও চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
এদিকে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনাও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। কলেজপাড়া এলাকার এক অভিভাবক জানান, পরীক্ষার সময় এমন পরিস্থিতি শিক্ষার্থীদের জন্য উদ্বেগজনক।
শিল্পখাতেও এর প্রভাব পড়েছে ব্যাপকভাবে। গাজীপুরে প্রায় ৫ হাজার শিল্পকারখানা রয়েছে, যার বেশিরভাগই তৈরি পোশাক শিল্প। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, নির্ধারিত সময়ে পণ্য সরবরাহ করা যাচ্ছে না।
বিকল্প হিসেবে ডিজেলচালিত জেনারেটর ব্যবহার করা হলেও ডিজেলের সংকট ও বাড়তি দামের কারণে উদ্যোক্তারা আরও বিপাকে পড়ছেন। অনেক ক্ষেত্রে শ্রমিকদের অলস বসে থাকতে হচ্ছে, যা উৎপাদনশীলতা কমিয়ে দিচ্ছে।
ইয়ন নিট কম্পোজিট কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ হাসান বলেন, ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে মেশিনপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে। একই দামে পণ্য বিক্রি করতে গিয়ে কারখানা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে।
পল্লী বিদ্যুৎ সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এলাকায় ৪৮৪ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৩১২ মেগাওয়াট। ঘাটতি ১৭২ মেগাওয়াট। এছাড়া অন্যান্য সমিতির আওতাধীন এলাকাগুলোতেও উল্লেখযোগ্য বিদ্যুৎ ঘাটতি রয়েছে।
গাজীপুর পল্লী বিদ্যুতের মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আবুল বাশার আজাদ বলেন, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় গড়ে প্রায় ৩০ শতাংশ লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সংশ্লিষ্টরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে বিদ্যুৎ সংকট অব্যাহত থাকলে গাজীপুরে জনভোগান্তি ও শিল্পখাতের ক্ষতি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
Posted ৫:৪০ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
brahmanbaria2usa.com | Dulal Miah